Tax VAT Point

উৎসে কর কর্তনের হার ২০২৫-২০২৬। কত হারে উৎসে কর কর্তন করবেন ?

উৎসে কর কর্তনের হার ২০২৫-২০২৬। কত হারে উৎসে কর কর্তন করবেন

Table of Contents

উৎসে কর কর্তনের হার ২০২৫-২০২৬। কত হারে উৎসে কর কর্তন করবেন ?

উৎসে কর কর্তনের হার ২০২৫২০২৬ঃ উৎসে কর কর্তন (TDS) আয়কর আইন ২০২৩ এর অধীনে পরিপালনীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। উৎসে আয়কর কর্তনের বাধ্যবাধকতা বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য—যেমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারী সংস্থা, এনজিও, এমনকি যেসব ছোট প্রতিষ্ঠান বছরে ১ কোটি টাকার বেশি লেনদেন করে, তাদের জন্যও উৎসে আয়কর কর্তন প্রযোজ্য। যেহেতু TDS অনেক ধরনের পেমেন্ট ও লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তাই কখন, কত হারে কর কাটতে হবে, সেটা পরিষ্কারভাবে জানা সবার জন্য জরুরি। এই ব্লগে আমরা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশে প্রযোজ্য উৎসে কর কর্তনের হার গুলো তুলে ধরবো।

উৎসে কর কর্তন কি ?

উৎসে কর কর্তন (TDS) হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে পণ্য বা সেবার মূল্য বাবদ কোনো অর্থ প্রদানের সময়ই নির্দিষ্ট হারে কর কেটে নেওয়া হয়। যিনি অর্থ প্রদান করেন, যাকে উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা বলা হয়, তিনি নির্ধারিত হারে কর কেটে নেওয়ার পর বাকি অর্থ পণ্য বা সেবা সরবরাহকারিকে পরিশোধ করেন।

উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, ABC লিমিটেড প্রতি মাসে ইন্টারনেট সেবার জন্য XYZ Net Limited-কে ১,০০,০০০ টাকা পরিশোধ করবে। কিন্তু পুরো টাকা না দিয়ে, ABC লিমিটেড ৫,০০০ টাকা উৎসে কর হিসেবে কেটে রেখে বাকি ৯৫,০০০ টাকা XYZ Net Limited-কে পরিশোধ করবে। কাটা ৫,০০০ টাকা সরকারকে জমা দেওয়া হবে, যা XYZ Net Limited-এর কর হিসেবে গণ্য হবে।

এইভাবেই বাস্তবে TDS পদ্ধতিটি কাজ করে।

উৎসে কর সংগ্রহ কি ?

TCS বা উৎসে কর সংগ্রহ হলো একটি পদ্ধতি, যেখানে লেনদেনের সময়ই কর্তৃপক্ষ কর আদায় করে নেয়। TDS এ যেখানে অর্থ প্রদান করার সময় কর কেটে নেওয়া হয়, সেখানে TCS হলো অর্থ নেওয়ার সময়ই কর আদায় করা। উৎসে আয়কর কর্তন এবং উৎসে আয়কর সংগ্রহ এর মধ্যে মূল পার্থক্য হল উৎসে আয়কর কর্তনের ক্ষেত্রে মূল্য পরিশোধের সময় আয়কর কর্তন করে রাখা হয় আর উৎসে আয়কর সংগ্রহের ক্ষেত্রে মূল্য পরিশোধের সময় মূল্যের সাথে আয়কর সংগ্রহ করা হয়।

বাংলাদেশে TCS-এর একটি সাধারণ উদাহরণ হলো পণ্য আমদানির সময় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সরাসরি কর সংগ্রহ করে নেয়। এছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে যেমন সনদপত্র ইস্যু বা নবায়নের সময় অথবা জমি, ভবন বা ফ্ল্যাটের মালিকানা হস্তান্তরের সময়ও, TCS প্রযোজ্য হয়।

কখন উৎসে কর কর্তন করতে হয় ?

বাংলাদেশে উৎসে কর কর্তন (TDS) শুধুমাত্র অর্থ পরিশোধের সময় প্রযোজ্য হয়—ইনভয়েস হিসাববইয়ে রেকর্ড করার সময় নয়। সাধারণভাবে, একটি লেনদেন দুই ধাপে হয়: প্রথমে ইনভয়েস রেকর্ড করা হয়, পরে চুক্তি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করা হয়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ইনভয়েস রেকর্ড করার সময় TDS কর্তন করতে হয় না, বরং যখন অর্থ প্রদান করা হয়, তখনই TDS কেটে নিতে হয়।

কে উৎসে কর কর্তন করবে ?

আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ১৪০(৩) অনুযায়ী, কিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি অর্থ প্রদান করার সময় আইন অনুযায়ী উৎসে কর (TDS) কর্তন করতে বাধ্য। এসব প্রতিষ্ঠানকে উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা (withholding entities) বলা হয়।

আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ১৪০(৩) অনুযায়ী নিম্নোক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা হল উৎসে কর কর্তনকারী সত্তাঃ

(ক) কোনো কোম্পানি, ফার্ম, ব্যক্তিসংঘ, ট্রাস্ট বা তহবিল;

(খ) পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপ;

(গ) কোনো বিদেশি ঠিকাদার, বিদেশি এন্টারপ্রাইজ বা বাংলাদেশের বাহিরে প্রতিষ্ঠিত কোনো সংঘ বা সংস্থা;

(ঘ) কোনো হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার;

(ঙ) বার্ষিক এক কোটি টাকার অধিক টার্নওভার বিশিষ্ট কোনো ই-কমার্স প্লাটফর্ম, যাহা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি নহে, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন;

(চ) বার্ষিক ১ (এক) কোটি টাকার অধিক টার্নওভার বিশিষ্ট হোটেল, কমিউনিটি সেন্টার, ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি;

(ছ) কৃষক নহেন এইরূপ কোনো ব্যক্তি যিনি তামাক পাতা, সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল ও অন্যান্য তামাক জাতীয় পণ্য উৎপাদন এবং সরবরাহে জড়িত;

এই প্রতিষ্ঠানগুলো যখন কোনো পণ্য বা সেবার জন্য অর্থ পরিশোধ করবে, তখন প্রযোজ্য হারে কর কর্তন করতে হবে। আপনার প্রতিষ্ঠান যদি উপরোক্ত তালিকাভুক্ত হয় এবং আপনি কোনো পণ্য বা সেবার জন্য অর্থ পরিশোধ করছেন, তাহলে সঠিক হারে কর কর্তন করে তারপর অর্থ পরিশোধ করুন।

উৎসে কর সম্পর্কিত আইনের ধারা ও বিধিগুলো কি কি ?

আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, উৎসে কর কর্তন (TDS) সম্পর্কিত হারসমূহ অংশ ৭ এর অধ্যায় ১ ও ২-এ উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে, উৎসে কর সংগ্রহ (TCS) সংক্রান্ত হারসমূহ অংশ ৭ এর অধ্যায় ৩-এ উল্লেখ করা হয়েছে। নিচের টেবিলে উৎসে কর কর্তন ও উৎসে কর সংগ্রহ সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক ধারাগুলোর সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো:

উৎসে কর কর্তন ও সংগ্রহ সম্পর্কিত আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারাসমূহ
অংশঅধ্যায়করের ধরণধারা
অংশ ৭অধ্যায় ১উৎসে কর কর্তন (TDS)ধারা ৮৬ – ১১৮
অংশ ৭অধ্যায় ২উৎসে কর কর্তন (TDS)ধারা ১১৯
অংশ ৭অধ্যায় ৩উৎসে কর সংগ্রহ (TCS)ধারা ১২০ – ১৩৯

এছাড়াও, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) উৎসে কর কর্তনের হার (TDS) ও উৎসে কর সংগ্রহের (TCS) হার এবং কর জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা নির্দিষ্ট করতে উৎসে কর কর্তন বিধিমালা প্রকাশ করে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য TDS হার নির্ধারণ করা হয়েছে SRO নম্বর ১৬১-আইন/আয়কর-৩৬/২০২৪, তারিখ: ২৯ মে ২০২৪ দ্বারা।

এই SRO ভালোভাবে বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানেই প্রযোজ্য TDS হার বিস্তারিতভাবে উল্লেখ আছে। মনে রাখতে হবে, NBR সময় সময় এই SRO হালনাগাদ করতে পারে। আপনি নিচের লিংকে ক্লিক করে এই SRO-এর সর্বশেষ সংশোধনীসহ সম্পূর্ণ কপি দেখতে পারবেনঃ

আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা-ভিত্তিক উৎসে কর কর্তনের হার ২০২৫-২০২৬

ধারাবিস্তারিতআইন অনুসারে হারবিধিউৎসে কর বিধিমালা ২০২৪ অনুসারে হার
ধারা ৮৬চাকরির আয় হইতে উৎসে কর কর্তনগড়হারেনাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ৮৭সংসদ সদস্যদের সম্মানী হইতে কর কর্তনগড়হারেনাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ৮৮অংশগ্রহণ তহবিল, কল্যাণ তহবিল ও শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল কর্তৃক উৎসে কর কর্তন১০%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ৮৯ঠিকাদার, সরবরাহকারী ইত্যাদিকে প্রদত্ত অর্থ হইতে কর কর্তনঅনধিক ১০% হারে বিধি-৩ 
১। এমএস বিলেট উৎপাদনে নিয়োজিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এবং স্থানীয়ভাবে ক্রয়কৃত এম এস স্ক্র্যাপের ক্ষেত্রে০.৫%
২। পেট্রোলিয়াম তেল এবং লুব্রিকেন্ট বিপণনে নিযুক্ত তেল বিপণন কোম্পানি কর্তৃক তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে০.৬%
৩।পেট্রোলিয়াম তেল বিপণন কোম্পানির ডিলার বা এজেন্ট কর্তৃক তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে১%
৪। ধান, ধানের কুড়া, চাল, গম, আলু, গবাদি পশু, মাছ, মাংস, পিঁয়াজ, রসুন, মটর, ছোলা, মসুর, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ডাল, ভূট্টা, আটা, ময়দা, লবণ, ভোজ্যতেল, চিনি, বীজ, পাটকাঠি, সরিষা, তিল, কাঁচা চা-পাতা, গোলমরিচ, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, তেজপাতা এবং পাট সরবরাহের ক্ষেত্রে০.৫%
৫। তুলা ও সুতা সরবরাহের ক্ষেত্রে১%
৬।সব ধরনের ফল সরবরাহের ক্ষেত্রে২%
৭।শতভাগ রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্প কর্তৃক প্রদত্ত সাব কন্ট্রাক্ট এর ক্ষেত্রে১%
৮।এমএস বিলেট ব্যতীত সিমেন্ট, লৌহ বা লৌহ পণ্য, ফেরো অ্যালয় পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে২%
৯।তেলশোধন (oil refinery) কার্যক্রমে নিযুক্ত কোনো কোম্পানি কর্তৃক তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে১.৫%
১০। গ্যাস ট্রান্সমিশনে নিয়োজিত কোম্পানির ক্ষেত্রে৩%
১১।গ্যাস বিতরণে নিযুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে০.৬%
১২।স্থানীয় পর্যায়ে নিজস্ব Vertical Continuous Vulcanization line রহিয়াছে এইরূপ কোনো কোম্পানি কর্তৃক তৈয়ারকৃত ৩৩ কেভি হইতে ৫০০ কেভি Extra High Voltage Power Cable সরবরাহের ক্ষেত্রে৩%
১৩।সরকার, সরকারের কোনো কর্তৃপক্ষ, কর্পোরেশন বা সরকারের সংস্থা এবং এর সকল সংযুক্ত ও অধীনস্থ অফিস ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তিকে বই সরবরাহের ক্ষেত্রে৩%
১৪।রিসাইকেল্ড সিসা সরবরাহের ক্ষেত্রে৩%
১৫।শিল্পোৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে৩%
১৬।রিসাইক্লিং শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে১.৫%
১৭।ম্যানুফ্যাকচারিং, প্রসেস বা কনভারশন, পূর্ত কাজ, নিৰ্মাণ, প্রকৌশল বা সমজাতীয় অন্য কোনো কাজের ক্ষেত্রে৫%
১৮।সিগারেট, বিড়ি, জর্দা ও গুল শিল্পে তামাকজাত কাঁচামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে১০%
১৯।

ক। সারণী ক্রমিক নং ১ হইতে ১৮ তে বর্ণিত হয় নাই এমন সকল পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে-

খ। ধারা ৮৯ এ উল্লিখিত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে

৫%
ধারা ৯০সেবার ক্ষেত্রে পরিশোধ হইতে কর্তনঅনধিক ২০% হারেবিধি-৪ 
১। উপদেষ্টা বা পরামর্শকস্বাভাবিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে – ১৫%
স্বাভাবিক ব্যক্তি ব্যতীত অন্যান্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে – ৭.৫%
২। পেশাদার সেবা (Professional service)স্বাভাবিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে – ১৫%
স্বাভাবিক ব্যক্তি ব্যতীত অন্যান্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে – ৭.৫%
৩। কারিগরি সেবা ফি (technical services fee), বা কারিগরি সহায়তা ফি (technical know-how or technical assistance fee)১০%
৪। (ক) ক্যাটারিং
(খ) ক্লিনিং
(গ) সংগ্রহ এবং পুনরুদ্ধার এজেন্সি
(ঘ) ব্যক্তিগত নিরাপত্তা
(ঙ) জনবল সরবরাহ
(চ) ক্রিয়েটিভ মিডিয়া
(ছ) জনসংযোগ
(জ) ইভেন্ট পরিচালনা
(ঝ) প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ইত্যাদি পরিচালনা
(ঞ) কুরিয়ার সার্ভিস
(ট) প্যাকিং এবং শিফটিং
(ঠ) একই প্রকৃতির অন্যান্য সেবা
(১) কমিশন বা ফি এর উপরে ১০%
(২) মোট বিল এর উপরে ২%
৫। প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এজেন্সি সেবা(১) কমিশন বা ফি এর উপরে ১০%
(২) মোট বিল এর উপরে ০.৬৫%
৬।ইন্ডেন্টিং কমিশন৭.৫%
৭।মিটিং ফি, ট্রেনিং ফি বা সম্মানী১০%
৮।মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর১২%
৯।ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি১০%
১০।মোটর গ্যারেজ বা ওয়ার্কশপ৮%
১১।ব্যক্তিগত কন্টেইনার পোর্ট বা ডকইয়ার্ড৮%
১২।শিপিং এজেন্সি কমিশন৮%
১৩।স্টিভডোরিং/ বার্থ অপারেশন কমিশন / টার্মিনাল অপারেটর/ শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর(১) কমিশন বা ফি এর উপরে ১০%
(২) মোট বিল এর উপরে ৫%
১৪।(১) পরিবহনসেবা, গাড়ি ভাড়া, ক্যারিয়িং সেবা এবং মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবা
(২) রাইড শেয়ারিং সেবা, ওয়ার্কিং স্পেস সরবরাহ সেবা, আবাসন সরবরাহ সেবাসহ যেকোনো প্রকার শেয়ারিং ইকনোমিক প্লাটফর্ম
৫%
১৫।বিদ্যুত সঞ্চালনায় নিয়োজিত হুইলিং চার্জ৩%
১৬।ইন্টারনেট৫%
১৭।মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট, ডিন্ট্রিবিউটর, এজেন্সি বা চ্যানেল পার্টনার, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন১০%
১৮।ফ্রেইট ফরওয়ার্ড বাবদ পরিশোধিত কমিশনসহ বা কমিশন ব্যতিরেকে গ্রস বিলের উপর১.৫%
১৯।ক্রমিক নং ১ হইতে ১৮ বর্ণিত হয় নাই এইরূপ অন্য কোনো সেবা যাহা আইনের অন্য কোনো ধারার অধীন কর কর্তন যোগ্য নহে১০%
ধারা ৯১স্পর্শাতীত সম্পত্তির জন্য পরিশোধিত অর্থ হইতে কর্তন১০%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ৯২প্রচার মাধ্যমের বিজ্ঞাপন আয় হইতে কর কর্তন৫%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ৯৩অভিনেতা, অভিনেত্রী, প্রযোজক, ইত্যাদি ব্যক্তিকে পরিশোধিত অর্থ হইতে কর্তন১০%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ৯৪কমিশন, ডিসকাউন্ট, ফি, ইত্যাদি হইতে কর্তন বা উৎসে কর সংগ্রহ১০%, ৫% বা ৩%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ৯৫ট্রাভেল এজেন্টের নিকট হইতে কর সংগ্রহ০.৩০%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ৯৬ঋণপত্রের কমিশন হিসাবে প্রাপ্ত অর্থ হইতে কর্তন৫%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ৯৭স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশন হিসাবে প্রাপ্ত অর্থ হইতে কর্তন৩%, ১.৫%, ২%, ১% বা ০.৫%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ৯৮সেলুলার মোবাইল ফোন অপারেটর কর্তৃক পরিশোধিত অর্থের উপর কর কর্তন২০%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ৯৯জীবন বিমা পলিসির প্রিমিয়ামের অতিরিক্ত কোনো পরিশোধ হইতে কর কর্তন৫%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ১০০বিমার কমিশনের অর্থ হইতে কর্তন৫%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ১০১সাধারণ বিমা কোম্পানি জরিপকারীদের ফি, ইত্যাদি হইতে কর কর্তন১৫%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ১০২সঞ্চয়ী আমানত ও স্থায়ী আমানত, ইত্যাদি হইতে কর কর্তন২০% বা ১০%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ১০৪নিবাসীর সুদ আয় হইতে কর কর্তন১০%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ১০৫সঞ্চয় পত্রের মুনাফা হইতে কর কর্তন১০%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ১০৬সিকিউরিটিজের সুদ হইতে উৎসে কর কর্তন১০%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ১০৭বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের প্রকৃত মূল্যের ছাড়ের উপর উৎসে কর কর্তনসর্বোচ্চ হারেনাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ১০৮আন্তর্জাতিক ফোন কলের জন্য প্রাপ্ত অর্থ হইতে কর কর্তন১.৫% বা ৭.৫%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ১০৯ভাড়া হইতে উৎসে কর কর্তন১০%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ১১০কনভেনশন হল, কনফারেন্স সেন্টার, ইত্যাদি হইতে সেবা প্রদানের জন্য কর কর্তন১০%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ১১১সম্পত্তি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ হইতে উৎসে কর কর্তন৬% বা ৩%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ১১২নগদ রপ্তানি ভর্তুকির উপর উৎসে কর কর্তন১০%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ১১৪বিদ্যুৎ ক্রয়ের বিপরীতে কর কর্তন৪%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ১১৫রিয়েল এস্টেট উন্নয়নকারীর (ডেভেলপার) নিকট হইতে ভূমির মালিক কর্তৃক প্রাপ্ত আয় হইতে কর কর্তন১৫%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ১১৬বিদেশি ক্রেতার এজেন্টকে প্রদত্ত কমিশন বা পারিশ্রমিক হইতে কর কর্তন৭.৫%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ১১৭লভ্যাংশ হইতে কর কর্তন১০% বা ১৫%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ১১৮লটারি, ইত্যাদি হইতে প্রাপ্ত আয় হইতে কর কর্তন২০%নাইপ্রযোজ্য নয়
ধারা ১১৯অনিবাসীদের আয় হইতে কর কর্তন বা সংগ্রহঅনধিক ৩০% হারেবিধি-৫ 
১।উপদেষ্টা বা পরামর্শস্বাভাবিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে – ২০%
স্বাভাবিক ব্যক্তি ব্যতীত অন্যান্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে – ১০%
প্রি-শিপমেন্ট পরিদর্শন২০%
৩।পেশাদার সেবা (professional service)স্বাভাবিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে – ২০%
স্বাভাবিক ব্যক্তি ব্যতীত অন্যান্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে – ১০%
৪।কারিগরি সেবা ফি বা কারিগরি সহায়তা ফি (Technical services, technical know-how or technical assistance)২০%
৫।আর্কিটেকচার, ইন্টেরিয়র ডিজাইন বা ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইন, ফ্যাশন ডিজাইন বা প্রসেস ডিজাইন২০%
৬।সার্টিফিকেশন, রেটিং ইত্যাদি২০%
৭।স্যাটেলাইট, এয়ারটাইম বা ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার বাবদ ভাড়া বা অন্য কোনো ব্যয়/ চ্যানেল সম্প্রচার বাবদ ভাড়া২০%
৮।আইনি সেবা২০%
৯।ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ ব্যবস্থাপনা সেবা২০%
১০।কমিশন২০%
১১।রয়্যালটি, লাইসেন্স ফি বা স্পর্শাতীত সম্পত্তির জন্য পরিশোধিত অর্থ২০%
১২।সুদ২০%
১৩।বিজ্ঞাপন সম্প্রচার২০%
১৪।বিজ্ঞাপন নির্মাণ ও ডিজিটাল মার্কেটিং১৫%
১৫।ধারা ২৫৯ এবং ধারা ২৬০ এ উল্লিখিত ক্ষেত্রসমূহ ব্যতীত নৌ পরিবহন বা বিমান পরিবহন৭.৫%
১৬।কন্ট্রাক্টর, সাব-কন্ট্রাক্টর ও সাব-সাব-কন্ট্রাক্টর কর্তৃক ম্যানুফ্যাকচারিং, প্রসেস বা কনভারশন, পূর্ত কাজ, নির্মাণ, প্রকৌশল বা সমজাতীয় অন্য কোনো কাজের ক্ষেত্রে৭.৫%
১৭।পণ্য সরবরাহ৭.৫%
১৮।মূলধনি মুনাফা১৫%
১৯।বীমা প্রিমিয়াম১০%
২০।যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ইত্যাদি ভাড়া১৫%
২১।লভ্যাংশ 
(১) কোম্পানি, তহবিল বা ট্রাস্ট কর্তৃক গৃহীত হইলে২০%
(২) কোম্পানি, তহবিল বা ট্রাস্ট ব্যতীত অন্যান্য ব্যক্তি কর্তৃক গৃহীত হইলে৩০%
২২।শিল্পী, গায়ক বা খেলোয়াড় কর্তৃক গৃহীত অর্থ৩০%
২৩।বেতন বা পারিশ্রমিক৩০%
২৪।পেট্রোলিয়াম অপারেশনের অনুসন্ধান বা ড্রিলিং৫.২৫%
২৫।কয়লা, তেল বা গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য সমীক্ষা২০%
২৬।জেনারেল ইন্সু্যুরেন্স কোম্পানির সার্ভেয়ার ফি ইত্যাদি৫.২৫%
২৭।তেল বা গ্যাসক্ষেত্র এবং এর রপ্তানি পয়েন্টের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য যেকোনো সেবা৫.২৫%
২৮।ব্যান্ডউইদ বাবদ পরিশোধ১০%
২৯।কুরিয়ার সার্ভিস১৫%
৩০।অন্য কোনো পরিশোধ২০%
ধারা ১২৪কোনো সেবা, রেভিনিউ শেয়ারিং, ইত্যাদি বাবদ বিদেশ হইতে প্রেরিত আয় হইতে কর কর্তন৭.৫%, বা ১.৫%নাইপ্রযোজ্য নয়

আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা-ভিত্তিক উৎসে কর সংগ্রহের হার ২০২৫-২০২৬

ধারাবিস্তারিতআইন অনুসারে হারবিধিউৎসে কর বিধিমালা ২০২৪ অনুসারে হার
ধারা ৯৪(৩)কমিশন, ডিসকাউন্ট, ফি, ইত্যাদি হইতে কর্তন বা উৎসে কর সংগ্রহ
(যখন নির্ধারিত খুচরা মূল্য হইতে কম মূল্যে পণ্য বিক্রয় হয়)
মূল্য × ৫% × ৫%প্রযোজ্য নয়প্রযোজ্য নয়
ধারা ১২০আমদানিকারকদের নিকট হইতে কর সংগ্রহঅনধিক ২০% হারেবিধি ৮বিধি ৮ দ্রষ্টব্য
ধারা ১২১জনশক্তি রপ্তানি হইতে কর সংগ্রহ১০%প্রযোজ্য নয়প্রযোজ্য নয়
ধারা ১২২ক্লিয়ারিং ও ফরওয়ার্ডিং এজেন্টদের নিকট হইতে কর সংগ্রহ১০%প্রযোজ্য নয়প্রযোজ্য নয়
ধারা ১২৩রপ্তানি আয় হইতে কর সংগ্রহ১%প্রযোজ্য নয়প্রযোজ্য নয়
ধারা ১২৫সম্পত্তি হস্তান্তর, ইত্যাদি হইতে কর সংগ্রহ

যাহা সর্বোচ্চ –

(১) জমির ক্ষেত্রে শতাংশ প্রতি ১২ লাখ টাকা
(২)অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটার ১,০০০ টাকা
(৩) দলিল মূল্যের ১০%

বিধি ৬বিধি ৬ দ্রষ্টব্য
ধারা ১২৬রিয়েল এস্টেট বা ভূমি উন্নয়নকারীর নিকট হইতে কর সংগ্রহ

যাহা সর্বোচ্চ –

(১) আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটার ১,৬০০ টাকা
(২) অনাবাসিক অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটার ৬,৫০০ টাকা
(৩)অ্যাপার্টমেন্টের সহিত সংশ্লিষ্ট ভূমির ক্ষেত্রে দলিল মূল্যের ৫%

বিধি ৭বিধি ৭ দ্রষ্টব্য
ধারা ১২৭সরকারি স্ট্যাম্প, কোর্ট ফি, কার্টিজ পেপার বাবদ পরিশোধিত কমিশন হইতে কর সংগ্রহ১০%প্রযোজ্য নয়প্রযোজ্য নয়
ধারা ১২৮সম্পত্তির ইজারা হইতে কর সংগ্রহ৪%প্রযোজ্য নয়প্রযোজ্য নয়
ধারা ১২৯সিগারেট উৎপাদনকারীর হইতে কর সংগ্রহ১০%প্রযোজ্য নয়প্রযোজ্য নয়
ধারা ১৩০ইট প্রস্তুতকারকের নিকট হইতে কর সংগ্রহ৮০,০০০
১২০,০০০
১৬০,০০০
২২০,০০০
প্রযোজ্য নয়প্রযোজ্য নয়
ধারা ১৩১ট্রেড লাইসেন্স প্রদান বা নবায়নের সময় কর সংগ্রহ৫০০
১,০০০
২,০০০
প্রযোজ্য নয়প্রযোজ্য নয়
ধারা ১৩২কোনো নিবাসীর জাহাজ ব্যবসা হইতে কর সংগ্রহ৩%
৫%
প্রযোজ্য নয়প্রযোজ্য নয়
ধারা ১৩৩প্রকাশ্য নিলামের বিক্রি হইতে কর সংগ্রহ১০%
১%
প্রযোজ্য নয়প্রযোজ্য নয়
ধারা ১৩৪শেয়ার হস্তান্তর হইতে কর সংগ্রহ১৫%প্রযোজ্য নয়প্রযোজ্য নয়
ধারা ১৩৫সিকিউরিটিজ হস্তান্তর হইতে কর সংগ্রহধারা ১৩৫ দ্রষ্টব্যপ্রযোজ্য নয়প্রযোজ্য নয়
ধারা ১৩৬স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার স্থানান্তর হইতে কর সংগ্রহ১৫%প্রযোজ্য নয়প্রযোজ্য নয়
ধারা ১৩৭স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের নিকট হইতে কর সংগ্রহ০.০৩%প্রযোজ্য নয়প্রযোজ্য নয়
ধারা ১৩৮বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত মোটরযান হইতে কর সংগ্রহধারা ১৩৮ দ্রষ্টব্যপ্রযোজ্য নয়প্রযোজ্য নয়
ধারা ১৩৯নৌযান পরিচালনা হইতে কর সংগ্রহধারা ১৩৯ দ্রষ্টব্যপ্রযোজ্য নয়প্রযোজ্য নয়
ধারা ১৫৩ব্যক্তিগত মোটরযান মালিকগণের নিকট হইতে অগ্রিম কর সংগ্রহধারা ১৫৩ দ্রষ্টব্যপ্রযোজ্য নয়প্রযোজ্য নয়

ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক সরবরাহকৃত সেবার ওপর উৎসে আয়কর কর্তনের বাধ্যবাধকতা নেই

উৎসে কর বিধিমালা ২০২৪ এর বিধি ৪(১) এর প্রোভাইসো অনুযায়ী, যদি কোনো সেবা সরাসরি কোনো ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান অথবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান দ্বারা প্রদান করা হয়, তাহলে সেই সেবার বিপরীতে উৎসে আয়কর কর্তনের প্রয়োজন হবে না। অর্থাৎ, এই ধরনের আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর থেকে প্রাপ্ত সেবার ওপর কর কর্তনের বিধান প্রযোজ্য নয়।

পেট্রোল পাম্প বা সিএনজি স্টেশন থেকে তেল বা গ্যাস ক্রয়ের ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর কর্তনের প্রয়োজন নেই

উৎসে কর বিধিমালা ২০২৪ এর বিধি ৩(১) এর প্রোভাইসো অনুযায়ী, পেট্রোল পাম্প বা সিএনজি স্টেশন কর্তৃক সরবরাহকৃত তেল বা গ্যাসের বিপরীতে কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিল প্রদান করা হলে, সেই লেনদেনে উৎসে আয়কর কর্তন করতে হবে না। অর্থাৎ, কোনো কোম্পানি পেট্রোল পাম্প থেকে তেল বা সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস সংগ্রহ করলে, উক্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর কর্তন প্রযোজ্য নয়।

নগদে মূল্য পরিশোধ করা হলে এবং রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (PSR) না থাকলে উৎসে আয়কর কর্তনের হার ৫০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে

আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ১৪২ অনুযায়ী, যদি কোনো পণ্য বা সেবার মূল্য নগদে পরিশোধ করা হয় (অর্থাৎ ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে), তাহলে নির্ধারিত উৎসে আয়কর কর্তনের উপর ৫০% অতিরিক্ত হারে কর কর্তন করতে হবে। অর্থাৎ কর কর্তনের হার ৫০% বৃদ্ধি পাবে।

এছাড়াও, মূল্য প্রদানকারীর যদি মূল্যগ্রহীতার কাছ থেকে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (PSR) চাওয়ার বাধ্যবাধকতার থাকে এবং মূল্য গ্রহীতা যদি উক্ত প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হন, তবে সেক্ষেত্রেও কর কর্তনের হার আরও ৫০% বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ, যদি দুটি শর্ত—নগদে মূল্য পরিশোধ এবং PSR না থাকা—একসাথে বিদ্যমান থাকে, তাহলে উৎসে আয়কর কর্তনের হার দ্বিগুণ পর্যন্ত হতে পারে।

এই বিষয়ে উৎসে কর কর্তনের হার কীভাবে প্রভাবিত হয়, তা স্পষ্টভাবে বুঝতে নিচের টেবিলটি দেখুন।

লেনদেনের ধরনস্বাভাবিক উৎসে কর কর্তনের হারব্যাংক ট্রান্সফাররিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (PSR)শর্ত অনুসারে প্রযোজ্য উৎসে কর কর্তনের হার
পণ্য সরবরাহ৫%হাঁহাঁ৫%
পণ্য সরবরাহ৫%নাহাঁ৭.৫%
পণ্য সরবরাহ৫%হাঁনা৭.৫%
পণ্য সরবরাহ৫%নানা১০%
ব্যক্তিগত নিরাপত্তা
(প্রাইভেট সিকিউরিটি সার্ভিস)
১০%হাঁহাঁ১০%
ব্যক্তিগত নিরাপত্তা
(প্রাইভেট সিকিউরিটি সার্ভিস)
১০%নাহাঁ১৫%
ব্যক্তিগত নিরাপত্তা
(প্রাইভেট সিকিউরিটি সার্ভিস)
১০%হাঁনা১৫%
ব্যক্তিগত নিরাপত্তা
(প্রাইভেট সিকিউরিটি সার্ভিস)
১০%নানা২০%

আয়কর কর্তন ছাড়া অর্থ পরিশোধ করা হলে গ্রস-আপ পদ্ধতিতে আয়কর কর্তন করতে হবে

আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ১৪১ এবং উৎসে কর বিধিমালা ২০২৪ এর বিধি ১৩ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি কর কর্তন না করেই কোনো অর্থ প্রদান করেন, তাহলে তাঁকে সেই পরিশোধিত অঙ্ককে ভিত্তি ধরে নির্ধারিত সূত্র অনুযায়ী মোট ট্যাক্সযোগ্য মূল্য (গ্রস অ্যামাউন্ট) হিসাব করে প্রযোজ্য হারে আয়কর কর্তন করতে হবে।

গ্রস-আপ পদ্ধতির সূত্র হলোঃ

ভিত্তিমূল্য = (১০০ × পরিশোধিত অর্থ) / (১০০ – উৎসে কর হার)

এই পদ্ধতিকে গ্রস-আপ পদ্ধতি (Gross-up method) বলা হয়, এবং এটি তখন প্রযোজ্য হয় যখন আয়কর কর্তন না করেই কাউকে অর্থ প্রদান করা হয়। এই পরিস্থিতিতে করদাতা নিজ খরচেই কর প্রদান করেন। নিচের উদাহরণটি দিয়ে বিষয়টি আরও পরিষ্কার করা হলো:

উদাহরণ:

ABC লিমিটেড অফিসের আসবাবপত্র কিনেছে জসিম ফার্নিচার থেকে, মোট মূল্য ১,৭০,০০০ টাকা। জসিম ফার্নিচার বলেছে যে, এই বিল থেকে কোনো টাকা কাটা যাবে না, অর্থাৎ পুরো ১,৭০,০০০ টাকা-ই পরিশোধ করতে হবে। এই ক্ষেত্রে, নির্ধারিত কর হার অনুযায়ী, কত টাকা গ্রস-আপ করতে হবে এবং কিভাবে কর কর্তন হবে—তা নিচের টেবিলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

 বিলের পরিমাণ ব্যাংক ট্রান্সফাররিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (PSR)স্বাভাবিক উৎসে কর কর্তনের হারশর্ত অনুসারে প্রযোজ্য উৎসে কর কর্তনের হারভিত্তিমূল্য
(100 × Payment) / (100 – TDS rate)
উৎসে কর কর্তনের পরিমাণ
(a)(b)(c)(d)(e)(f)=(১০০×a)/(১০০-e)(g)=f×e
১৭০,০০০হাঁহাঁ৫%৫%১৭৮,৯৪৭৮,৯৪৭
১৭০,০০০হাঁনা৫%৭.৫%১৮৩,৭৮৪১৩,৭৮৪
১৭০,০০০নাহাঁ৫%৭.৫%১৮৩,৭৮৪১৩,৭৮৪
১৭০,০০০নানা৫%১০%১৮৮,৮৮৯১৮,৮৮৯

উৎসে আয়কর কর্তন না করলে আরোপিত হয় সুদ ও জরিমানা

যদি কোনো ব্যক্তি প্রযোজ্য উৎসে আয়কর যথাযথভাবে কর্তন না করেন, তাহলে তিনি খেলাপি করদাতা হিসেবে বিবেচিত হবেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শুধুমাত্র নির্ধারিত কর পরিশোধই করতে হবে না, বরং বকেয়া করের উপর প্রতি মাসে ২% হারে সুদও প্রদান করতে হবে।

তদুপরি, আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তন না করার দায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত জরিমানা আরোপ করতে পারে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

  • ধারা ১৪৩ – কর্তন, সংগ্রহ, ইত্যাদির ব্যর্থতার ফলাফল

কর্তনকৃত বা আদায়কৃত কর জমা দেওয়ার সময়

আয়কর আইন ২০২৩ এর অধীনে উৎসে কর কর্তন বা আদায়কৃত যেকোনো কর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সরকারী কোষাগারে জমা দিতে হয়। উৎসে কর বিধিমালা ২০২৪ এর বিধি ৯ অনুযায়ী, কর্তনকৃত বা আদায়কৃত কর নিম্নলিখিত সময়সীমার মধ্যে জমা দিতে হবে:

ক্রমিক নংকর্তন ও সংগ্রহের সময়সরকারি কোষাগারে জমাদানের তারিখ
(১)(২)(৩)
ক।অর্থবৎসরের জুলাই থেকে মে মাসের যেকোনো কর্তন বা সংগ্রহের ক্ষেত্রেকর্তন বা সংগ্রহের মাসের শেষে পরবর্তী ০২ (দুই) সপ্তাহের মধ্যে
খ।অর্থবৎসরের জুন মাসের ১ম থেকে ২০তম দিনের যে কোনো দিনের কর্তন বা সংগ্রহের ক্ষেত্রেকর্তন বা সংগ্রহের দিনের পরবর্তী ০৭ (সাত) দিনের মধ্যে
গ।অর্থবৎসরের জুন মাসের অন্যান্য যেকোনো দিনের কর্তন বা সংগ্রহের ক্ষেত্রেকর্তন বা সংগ্রহের পরবর্তী দিন
ঘ।অর্থবৎসরের জুন মাসের শেষ কর্মদিবেসে কর কর্তন বা সংগ্রহের ক্ষেত্রেকর্তন বা সংগ্রহের দিন

উপসংহার - উৎসে কর কর্তনের হার ২০২৫-২০২৬

বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার সময় উৎসে আয়কর কর্তন (TDS) এবং উৎসে আয়কর সংগ্রহ (TCS) একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নিয়মিত বাধ্যবাধকতা হিসেবে বিবেচিত হয়। লেনদেনের ধরণ অনুযায়ী নির্ধারিত হারে মূল্য থেকে আয়কর কর্তন করা হয়। যদি কোনো লেনদেনে কর কর্তন না করে মূল্য প্রদান করা হয়, তাহলে গ্রস-আপ পদ্ধতি ব্যবহার করে উৎসে করের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।

উৎসে আয়কর কর্তন ও সংগ্রহ সম্পর্কিত সঠিক জ্ঞান অর্জনের জন্য আয়কর আইন ২০২৩ এর অংশ ৭ এর অধ্যায় ১, ২ এবং ৩ ভালোভাবে বোঝা প্রয়োজন। পাশাপাশি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক জারি করা উৎসে কর বিধিমালা ২০২৪ সম্পর্কেও অবগত থাকা জরুরি।

উৎসে কর কর্তনের হার ২০২৫-২০২৬ - উৎস / রেফারেন্স:

Share on – 

1 thought on “উৎসে কর কর্তনের হার ২০২৫-২০২৬। কত হারে উৎসে কর কর্তন করবেন ?”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Protected Contents. You are not allowed to do this action. For any information, please connect at info@taxvatpoint.com

Scroll to Top