মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২
ধারা ২০ - আমদানিকৃত সেবার উপর মূল্য সংযোজন কর আরোপ ও আদায়
১[(১) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, প্রথম তফসিলে বর্ণিত অব্যাহতিপ্রাপ্ত সেবাসমূহ ব্যতীত বাংলাদেশে আমদানিকৃত সকল সেবা করযোগ্য সরবরাহ হিসেবে বিবেচিত হইবে এবং উক্ত সরবরাহের উপর প্রযোজ্য মূল্য সংযোজন করের হার হইবে শতকরা ১৫ (পনের) শতাংশ।
(২) আমদানিকৃত সেবা’র মূল্য হইবে ধারা ৩২ অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্য যাহার উপর প্রদেয় মূল্য সংযোজন কর পরিশোধের দায়ভার সেবা গ্রহীতার উপর বর্তাইবে, যাহা উক্ত ব্যক্তির উৎপাদ কর হইবে।
(৩) কোন ব্যক্তি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ও বাহিরে অর্থাৎ একাধিক স্থান হইতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করিলেঃ
(ক) উক্ত ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি হিসাবে গণ্য হইবেন; এবং
(খ) দেশের অভ্যন্তরের ব্যক্তি দেশের বাহিরের ব্যক্তির নিকট হইতে করযোগ্য কোন সেবা গ্রহণ করিলে, উক্ত কার্যক্রমটি সেবা আমদানি কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হইবে।
(৪) ব্যাংক বা অন্যকোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান, সেবা আমদানিকারকের অনুকূলে আমদানিকৃত সেবার আংশিক বা পূর্ণ মূল্য পরিশোধকালে উক্ত মূল্যের উপর প্রযোজ্য মূল্য সংযোজন কর, আমদানিকারকের সার্কেল কোড ও অর্থনৈতিক কোডের বিপরীতে সরকারি কোষাগারে ট্রেজারি চালানে জমা প্রদান করিবেন এবং উক্ত ট্রেজারি চালান এর একটি কপি সেবা আমদানিকারকে প্রদান করিবেন, যাহা আমদানিকারকের জন্য কর চালানপত্র হিসেবে বিবেচিত হইবে।
(৫) আমদানিকৃত সেবা কোন সেবা আমদানিকারকের উপকরণ হিসেবে বিবেচিত হইলে উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত কর চালানপত্রের বিপরীতে আইনের ধারা ৪৬ এর বিধানাবলী পরিপালন সাপেক্ষে উপকরণ কর রেয়াত প্রাপ্য হইবে। ]
১ অর্থ আইন, ২০২৬ এর (৬) ধারাবলে নিম্নরূপ ধারা ২০ এর পরিবর্তে প্রতিস্থাপিত।
[ ধারা ২০ – আমদানিকৃত সেবার ক্ষেত্রে গ্রহীতার নিকট হইতে (reverse charged) কর আদায়
(১) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আমদানিকৃত কোন সেবা সরবরাহ করযোগ্য সরবরাহ হইবে, যদি―
(ক) সরবরাহ গ্রহীতা একজন নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি হন এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রক্রিয়ায় উক্ত সেবা অর্জন (acquire) করেন; এবং
(খ) সরবরাহটি নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি কর্তৃক অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে প্রদত্ত হইত এবং উক্ত সেবা শূন্যহার বিশিষ্ট না হইয়া অন্য কোন হারে করযোগ্য হইত।
(২) আমদানিকৃত সেবার করযোগ্য সরবরাহের গ্রহীতা কর্তৃক প্রদেয় মূল্য সংযোজন কর উক্ত ব্যক্তির উৎপাদ এবং উপকরণ উভয়বিধ কর হইবে।
(৩) আমদানিকৃত সেবা সরবরাহের কারণে যদি কোন সমন্বয় ঘটনা সংঘটিত হইয়া থাকে বা হয়, তাহা হইলে উক্তরূপ সমন্বয় সংঘটনের কারণে উক্ত সেবা একটি করযোগ্য সরবরাহ হইবে এবং উক্ত সেবার সরবরাহ গ্রহীতা সেবা সরবরাহকারী হিসাবে গণ্য হইবেন।
(৪) ‘‘আমদানিকৃত সেবা’’র সংজ্ঞা এবং উক্ত সেবার ক্ষেত্রে এই আইন প্রয়োগের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, যদি কোন নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট কোন স্থান হইতে এবং বাংলাদেশের বাহিরে এক বা একাধিক নির্দিষ্ট স্থান হইতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তবে―
(ক) উক্ত ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এবং বাহিরে পরিচালিত করযোগ্য কার্যক্রমের ক্ষেত্রে দুইজন পৃথক ব্যক্তি হিসাবে গণ করা হইবে;
(খ) বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যান্তরে অবস্থিত ব্যক্তির নিকট (এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সংজ্ঞায়িত) সেবার প্রকৃতি বিশিষ্ট সুবিধা সম্বলিত সেবা প্রদান করিয়াছে বলিয়া গণ্য করা হইবে, যাহা বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত ব্যক্তি কর্তৃক পরিচালিত কার্যক্রমের মাধ্যমে বা ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত ব্যক্তি কর্তৃক প্রাপ্ত হইয়াছে;
(গ) সেবা সরবরাহ করা হইয়াছে উহা অনুমান করিয়া সরবরাহের সময় নির্ধারণ করা হইবে; এবং
(ঘ) সেবা সরবরাহ বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোন অনাবাসিক ব্যক্তি কর্তৃক বাংলাদেশে অবস্থিত কোন সহযোগীর নিকট প্রদান করা হইয়াছে অনুমান করিয়া উহার মূল্য নির্ধারণ করা হইবে।
(৫) এই ধারার অন্যান্য উপ-ধারাসমূহে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, প্রথম তফসিলে বর্ণিত অব্যাহতিপ্রাপ্ত সেবাসমূহ ব্যতীত নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত নহেন অথবা নিবন্ধন বা তালিকাভুক্তিযোগ্য নহেন এমন কোন ব্যক্তি কর্তৃক আমদানিকৃত কোন সেবা করযোগ্য সরবরাহ হইবে এবং উহা হইতে নিম্নরূপে মূল্য সংযোজন কর আদায় হইবে, যথা:-
(ক) সংশ্লিষ্ট সেবা আমদানির ক্ষেত্রে সেবামূল্যের আংশিক বা পূর্ণমূল্য পরিশোধের সময় প্রদেয় সমুদয় মূল্য সংযোজন কর মূল্য পরিশোধের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহৃত ব্যাংক বা অন্য কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তন করিবে; এবং
(খ) কর্তনকারী ব্যাংক বা অন্য কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেবা আমদানিকারকের পক্ষে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে পরিশোধ করিয়া তাহার দাখিলপত্রে প্রদর্শন করিবে। ]
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে উল্লিখিত কোনো কিছু যদি সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত আইন, বিধি, প্রজ্ঞাপন ও আদেশের সহিত সাংঘর্ষিক হয় সেইক্ষেত্রে উক্ত ইস্যুকৃত আইন, বিধি, প্রজ্ঞাপন ও আদেশই প্রাধান্য পাবে।