Tax VAT Point

বিনিয়োগ কর রেয়াত – কর ছাড় পেতে আয়ের কত টাকা বিনিয়োগ করবেন

কর ছাড় পেতে আয়ের কত টাকা বিনিয়োগ করবেন

Table of Contents

ভূমিকা

বিনিয়োগ কর রেয়াত (Investment Tax Rebate) একটি কৌশলগত বিধান যা অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ বা দান প্রদানে উৎসাহ দিয়ে ব্যক্তি করদাতার করের বোঝা হ্রাস করার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে। সঠিক কর ছাড় পাওয়ার জন্য আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী বিনিয়োগ ভাতা (investment allowance) এবং এর প্রভাব সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা প্রয়োজন। একইসঙ্গে কর রেয়াত পাওয়ার জন্য আয়ের কতটুকু অংশ বিনিয়োগ করা উচিত তাও ভালোভাবে বোঝা জরুরি।

এখানে উল্লেখযোগ্য যে, সব বিনিয়োগের উপর কর ছাড় পাওয়া যায় না। শুধুমাত্র আইনের ষষ্ঠ তফসিলে উল্লিখিত নির্দিষ্ট কিছু বিনিয়োগ ও দান কর রেয়াতের আওতাভুক্ত। তাই শুধু কোথায় বিনিয়োগ করা হবে তা নির্ধারণ করলেই চলবে না—সর্বোচ্চ কর রেয়াত পেতে হলে কতটুকু বিনিয়োগ করা উচিত, সে বিষয়েও পরিকল্পনা প্রয়োজন।

বিনিয়োগ কর রেয়াত

বিনিয়োগ কর রেয়াত বলতে বোঝায়, আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী নির্ধারিত ও অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানসমূহে বিনিয়োগ বা অনুদান প্রদানের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির আয়কর দায় হ্রাসের সুযোগ।

এই রেয়াত বা ছাড় করদাতার মোট করের বিপরীতে প্রদান করা হয়, তবে শর্ত থাকে যে বিনিয়োগগুলো অবশ্যই আইনে নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী হতে হবে। অর্থাৎ, যারা আইনসম্মতভাবে অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ করেন, তারা নিয়ম মেনে করের পরিমাণ বৈধভাবে কমাতে পারেন।

কর রেয়াত পাওয়ার জন্য কোথায় বিনিয়োগ করবেন

স্বাভাবিক ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতারা সাধারণত বৈধভাবে করের দায় কমানোর পথ খোঁজেন। এ ক্ষেত্রে আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ৭৮ অনুসারে বিনিয়োগ কর রেয়াত একটি অত্যন্ত কার্যকর কৌশল হিসেবে বিবেচিত।

এই সুবিধা গ্রহণ করতে হলে, করদাতাকে অবশ্যই আইনে নির্ধারিত অনুমোদিত বিনিয়োগ খাতগুলোতে অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। এছাড়াও, স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানসমূহে অনুদান (donation) প্রদান করলেও বিনিয়োগ কর রেয়াতের আওতায় আসা যায়, যা কর হ্রাসের একটি অতিরিক্ত সুযোগ সৃষ্টি করে।

আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী কোন কোন বিনিয়োগ ও অনুদান খাতে কর রেয়াত পাওয়া যায়, তা জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন:

বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে কর ছাড় পাওয়ার উপায়সমূহ ২০২৫

সর্বোচ্চ কর ছাড় পেতে আয়ের কত টাকা বিনিয়োগ করবেন?

আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ৭৮ এ সর্বোচ্চ রেয়াত নির্ধারণে একটি সূত্র প্রদান করা হয়েছে, যার মাধ্যমে করদাতা তার কর রেয়াতের সীমা নিরূপণ করতে পারেন।

এই রেয়াতের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য প্রথমে সর্বোচ্চ রেয়াত কত হতে পারে তা হিসাব করতে হয়, এরপর সেই অনুযায়ী কত টাকা বিনিয়োগ করতে হবে তা উল্টোভাবে (back calculation) গণনা করতে হয়।

অতএব, সর্বোচ্চ কর রেয়াত লাভের জন্য বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ধারণে করদাতাকে আইন অনুসারে নির্ধারিত সূত্র প্রয়োগ করতে হবে।

ধারা ৭৮: বিনিয়োগ কর রেয়াত নির্ধারণের সূত্র

আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ৭৮ অনুযায়ী, করদাতার বিনিয়োগ কর রেয়াতের পরিমাণ নিম্নোক্ত তিনটির মধ্যে সর্বনিম্নটি হবে:

১. “” এর ৩%

২. “” এর ১৫%

৩. সর্বোচ্চ রেয়াত সীমা – ১০,০০,০০০ টাকা (১০ লাখ)

যেখানে:

= মোট করযোগ্য আয় (যার মধ্যে করমুক্ত আয়, হ্রাসকৃত হারে করযোগ্য আয় এবং ন্যূনতম কর প্রযোজ্য আয় অন্তর্ভুক্ত হবে না)

= আয়কর আইন ২০২৩ এর ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ৩ অনুসারে অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ ও ব্যয় এর মোট পরিমাণ

এর মানে হলো:

  • করদাতা তার করযোগ্য আয়ের ৩% এর বেশি রেয়াত পেতে পারেন না
  • আবার, রেয়াতের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অতিক্রম করতে পারবে না

অতএব, সর্বোচ্চ কর রেয়াত পেতে হলে উপরের সীমাগুলোর ভিত্তিতে বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।

কর ছাড় পেতে আয়ের কত টাকা বিনিয়োগ করবেন তা কিভাবে নির্ধারণ করবেন ?

প্রক্রিয়া ১

সর্বোচ্চ কর রেয়াত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ণয় করতে নিচের দুইটি ধাপ অনুসরণ করুন:

ধাপ ১: সর্বোচ্চ রেয়াতের পরিমাণ নির্ধারণ করুন

প্রথমে আপনার যোগ্য করযোগ্য আয়ের (অর্থাৎ উপরে উল্লেখিত ““) ৩% হিসাব করুন। এই পরিমাণটিই আপনার কর রেয়াতের সর্বোচ্চ সীমা, আপনি যতই বিনিয়োগ করুন না কেন, কর রেয়াত এই সীমা অতিক্রম করবে না।

ধাপ ২: উল্টোভাবে (back calculation) হিসাব করে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নির্ধারণ করুন

সর্বোচ্চ কর রেয়াতের পরিমাণ জানার পর, সেই পরিমাণকে ১৫% দিয়ে ভাগ করুন (যেহেতু ধারা ৭৮ এর অনুযায়ী ১৫%)। এই হিসাব আপনাকে জানাবে, সর্বোচ্চ কর রেয়াত পেতে সর্বনিম্ন কত টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।

সূত্র:

প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ = (সর্বোচ্চ রেয়াতের পরিমাণ) ÷ ১৫%

এই হিসাব আপনাকে নিশ্চিত করবে যে আপনার বিনিয়োগ আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ রেয়াতের সীমার সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ—না বেশি, না কম।

প্রক্রিয়া ২

উপরের দুই-ধাপ বিশ্লেষণ না করেও, আপনি সহজভাবে একটি বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। এর জন্য শুধুমাত্র আপনার মোট আয়ের ২০% হিসাব করুন।

এই পদ্ধতিতে নির্ধারিত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রক্রিয়া ১-এ নির্ধারিত বিনিয়োগের সমান হবে এবং একইভাবে সর্বোচ্চ কর রেয়াত নিশ্চিত করবে।

সূত্র:

প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ = মোট আয়ের ২০%

এই সরল পদ্ধতি ব্যবহার করে আপনি দ্রুত নির্ধারণ করতে পারবেন কতটুকু বিনিয়োগ করলে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ কর রেয়াত পাওয়া যাবে।

ভুল করার ক্ষেত্র – করমুক্ত আয়, হ্রাসকৃত করহার প্রযোজ্য আয় ও ন্যূনতম কর প্রযোজ্য আয়

আমার পেশাগত অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায়, করদাতারা প্রায়ই আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ৭৮ অনুযায়ী “” উপাদান নির্ধারণে বিভ্রান্ত হন। প্রক্রিয়া ১-এ উল্লিখিত ৩% বা প্রক্রিয়া ২-এ উল্লিখিত ২০% প্রয়োগের আগে অবশ্যই মোট আয় থেকে নিচের তিনটি আয়ের ধরন বাদ দিতে হবে:

১. করমুক্ত আয়

২. হ্রাসকৃত হারে করযোগ্য আয়

৩. যে আয়ের উপর ন্যূনতম কর প্রযোজ্য

এই আয়গুলো সঠিকভাবে বাদ না দিলে, আপনার বিনিয়োগ পরিমাণের হিসাব ভুল হতে পারে, যার ফলে আপনি হয়তো আইনসিদ্ধ কর রেয়াত থেকে বঞ্চিত হবেন।

তাই, কর রেয়াত নির্ধারণে যথাযথ ও নির্ভুলভাবে “” নিরূপণ করাটিই সফল পরিকল্পনার ভিত্তি।

প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ কীভাবে সঠিকভাবে নির্ধারণ করবেন তা আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য নিচের ভিডিও দেখার অনুরোধ রইল।

সঠিক বিনিয়োগ – কখন কম বিনিয়োগই যথেষ্ট হতে পারে

বাংলাদেশে করদাতার ভৌগোলিক অবস্থানের উপর ভিত্তি করে ৫,০০০ বা ৪,০০০ বা ৩,০০০ টাকা সর্বনিম্ন কর প্রযোজ্য হয়। আপনি যদি এই সর্বনিম্ন করের আওতাভুক্ত হন, তাহলে উপরোক্ত প্রক্রিয়া ১ অথবা প্রক্রিয়া ২ অনুযায়ী সম্পূর্ণ বিনিয়োগ করার প্রয়োজন নাও হতে পারে।

এই ধরনের ক্ষেত্রে, আপনার নির্ধারিত কর দায় পূরণের জন্য কম পরিমাণ বিনিয়োগও যথেষ্ট হতে পারে। অর্থাৎ, কর রেয়াত পেতে এত বেশি বিনিয়োগ না করেও আপনি আপনার আইনি কর দায়বদ্ধতা পূরণ করতে পারবেন।

এই ধারণাটি আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য এবং এটি আপনার প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের পরিমাণকে কীভাবে প্রভাবিত করে তা জানতে নিচের ভিডিওটি দেখার জন্য আপনাকে অনুরোধ করা হলো।

উপসংহার

কর ছাড় পেতে আয়ের কত টাকা বিনিয়োগ করবেন তা বোঝা কার্যকর কর পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপরে উল্লিখিত যেকোনো পদ্ধতি প্রয়োগ করে করদাতারা সহজেই তাদের সর্বোচ্চ অনুমোদিত কর রেয়াত পাওয়ার জন্য সঠিক ও উপযুক্ত বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারবেন যা আয়কর আইন ২০২৩ এর অধীনে প্রযোজ্য।

কর ছাড় পেতে আয়ের কত টাকা বিনিয়োগ করবেন – উৎস ও রেফারেন্সসমূহ:

Share on – 

1 thought on “বিনিয়োগ কর রেয়াত – কর ছাড় পেতে আয়ের কত টাকা বিনিয়োগ করবেন”

  1. অর্থবছর ২০২৫-২৬-এর জন্য, ১৫,২৩,৪৮০ টাকা চাকরি থেকে আয় এবং ২,০৮,০৯৩ টাকা ব্যাংক সুদ থেকে আয় হয়। বিনিয়োগ ছিল ৭,০৪,৪৮৯ টাকা। রেয়াত সীমা দেখায় ৭,০৩৬৭১। E return এ আমার ট্যাক্স অন রেগুলার ইনকাম দেখাচ্ছে ১৫৪৬৯৬ আর tax on Income u/s 163: ২৮৩৭১। আমার তো মনে হয় TDS এর পরিমান টা tax on Income u/s 163 আসার কথা। বিনিয়োগের রেয়াত দেখায় ৪৭৯৭৩। TDS কাটছে ২১১৪১। আমার মোট ট্যাক্স দেখাচ্ছে ১৩৫০৯৪। এটা কি ঠিক আছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Protected Contents. You are not allowed to do this action. For any information, please connect at info@taxvatpoint.com

Scroll to Top