আয়কর আইন ২০২৩
ধারা ৫৫ - কতিপয় ক্ষেত্রে বিয়োজন অনুমোদনযোগ্য না হওয়া
এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে ব্যবসা হইতে আয় পরিগণনায় নিম্নবর্ণিত বিয়োজনসমূহ অনুমোদনযোগ্য হইবে না, যথা:-
(ক) যেকোনো প্রকারের ব্যয় বা পরিশোধ যাহার ক্ষেত্রে অংশ ৭ এর বিধানাবলি যথাযথভাবে পরিপালন করা হয় নাই;
(খ) কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ কর্তৃক ফার্মের কোনো অংশীদার বা ব্যক্তিসংঘের কোনো সদস্যকে প্রদত্ত সুদ, বেতন, কমিশন বা পারিতোষিক;
(গ) কোনো কোম্পানি কর্তৃক ১[স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার, ডিরেক্টর শেয়ারহোল্ডার বা প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারকে] কোনো কমিশন বা ডিসকাউন্ট প্রদান;
(ঘ) ধারা ৩২ এর ব্যাখ্যাতে সংজ্ঞায়িত পারকুইজিট বাবদ কোনো কর্মচারীকে প্রদত্ত ২[২০ (বিশ)] লক্ষ টাকার অতিরিক্ত যেকোনো অঙ্ক:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সরকারি সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গঠিত মজুরি বোর্ডের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য কর্মচারীদের অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে এই ধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য হইবে না;
(ঙ) রয়্যালটি, লাইসেন্স ফি, কারিগরি সেবা ফি, কারিগরি কৌশল বাবদ ফি, কারিগরি সহায়তা ফি বা স্পর্শাতীত সম্পত্তি ব্যবহার বাবদ নির্বাহকৃত সমপ্রকৃতির অন্য যেকোনো ফি বাবদ মোট ব্যয়সমষ্টির ক্ষেত্রে আর্থিক বিবরণীতে প্রদর্শিত ৩[ব্যবসায়িক টার্নওভার এর ৬% (ছয় শতাংশ) অথবা নীট ব্যবসায় মুনাফার ১৫% (পনের শতাংশ), যেটি কম, ] এর অতিরিক্ত ব্যয়;
(চ) বাংলাদেশে নিবন্ধিত নহে এইরূপ কোনো কোম্পানি কর্তৃক নির্বাহকৃত হেড অফিস অথবা ইন্ট্রা-গ্রুপ ব্যয়, তাহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, এর ক্ষেত্রে আর্থিক বিবরণীতে প্রদর্শিত নীট ব্যবসায় মুনাফার ১০% (দশ শতাংশ) এর অতিরিক্ত ব্যয়;
(ছ) ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বিদেশ ভ্রমণ সম্পর্কিত ব্যয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক বিবরণীতে প্রদর্শিত ব্যবসায়িক টার্নওভারের ০.৫% (শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ) এর অতিরিক্ত অঙ্ক:
তবে শর্ত থাকে যে, করদাতা সরকারকে কোনো সেবা প্রদানের কাজে বিদেশ ভ্রমণ করিলে সেইক্ষেত্রে এই সীমা প্রযোজ্য হইবে না:
আরও শর্ত থাকে যে, এই দফায় অধীন পরিগণিত অতিরিক্ত অঙ্কের সমর্থনে প্রমাণাদি উপস্থাপন করিলে এবং উহার বাণিজ্যিক যৌক্তিকতা প্রমাণিত হইলে এই দফায় প্রদত্ত সীমা প্রযোজ্য হইবে না;
(জ) আপ্যায়ন ব্যয় হিসাবে নিম্নবর্ণিত অঙ্কের অতিরিক্ত অঙ্ক-
(অ) আপ্যায়ন ব্যয় বিয়োজন ব্যতীত নিরূপিত ব্যবসায় আয়ের প্রথম ১০ (দশ) লক্ষ টাকার ৪% (চার শতাংশ); এবং
(আ) আপ্যায়ন ব্যয় বিয়োজন ব্যতীত নিরূপিত ব্যবসায় আয়ের প্রথম ১০ (দশ) লক্ষ টাকা বাদে পরবর্তী অঙ্কের ২% (দুই শতাংশ);
(ঝ) ফ্রি স্যাম্পল বিতরণে নিম্নবর্ণিত অঙ্কের অতিরিক্ত অঙ্ক-
(অ) ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের ক্ষেত্রে-
(১) ব্যবসায়িক টার্নওভারের ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা পর্যন্ত ২% (দুই শতাংশ) হারে;
(২) ব্যবসায়িক টার্নওভার ৫ (পাঁচ) কোটি টাকার অধিক, তবে ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক নহে এইরূপ ক্ষেত্রে ১% (এক শতাংশ) হারে;
(৩) ব্যবসায়িক টার্নওভার ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক এইরূপ ক্ষেত্রে ০.৫% (শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে;
(আ) খাদ্য, প্রসাধনী ও সুগন্ধি শিল্পের ক্ষেত্রে-
(১) ব্যবসায়িক টার্নওভারের ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা পর্যন্ত ১% (এক শতাংশ) হারে;
(২) ব্যবসায়িক টার্নওভার ৫ (পাঁচ) কোটি টাকার অধিক, তবে ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক নহে এইরূপ ক্ষেত্রে ০.৫% (শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে;
(৩) ব্যবসায়িক টার্নওভার ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক এইরূপ ক্ষেত্রে ০.২৫% (শূন্য দশমিক দুই পাঁচ শতাংশ) হারে;
(ই) অন্যান্য শিল্পের ক্ষেত্রে-
(১) ব্যবসায়িক টার্নওভারের ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা পর্যন্ত ০.৫% (শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে;
(২) ব্যবসায়িক টার্নওভার ৫ (পাঁচ) কোটি টাকার অধিক কিন্তু ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক নহে এইরূপ ক্ষেত্রে ০.২৫% (শূন্য দশমিক দুই পাঁচ শতাংশ) হারে;
(৩) ব্যবসায়িক টার্নওভার ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক এইরূপ ক্ষেত্রে ০.১% (শূন্য দশমিক এক শতাংশ) হারে;
(ঞ) বিজ্ঞাপন ব্যতীত অন্যান্য প্রচারণামূলক ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক টার্নওভারের ০.৫% (শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ) এর অধিক অঙ্ক;
(ট) কর্মচারীর চাকরি হইতে আয় বলিয়া বিবেচিত এইরূপ কোনো অর্থ যদি ব্যাংকিং মাধ্যমে পরিশোধ না হইয়া অন্য কোনো মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়;
(ঠ) কোনো পরিশোধ যাহা ভাড়া হইতে আয় বলিয়া বিবেচিত তাহা ব্যাংকিং মাধ্যমে পরিশোধ না হইয়া অন্য কোনো মাধ্যমে পরিশোধ হইয়া থাকিলে উক্ত পরিশোধিত অর্থ;
৪[ (ড) দফা (ট), (ঠ) এবং কাঁচামাল ব্যতীত অন্যান্য সকল প্রকার ব্যয় বাবদ মোট পরিশোধের ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) এর অধিক ব্যাংকিং মাধ্যম ব্যতীত অন্য কোনো মাধ্যমে পরিশোধিত হইয়া থাকিলে অন্য মাধ্যমে পরিশোধিত মোট অঙ্কের ২৫% (পঁচিশ শতাংশ); ]
(ঢ) ৫[*** ]
(ণ) ধারা ২৬৪ এর উপ-ধারা (৩) এর দফা ৬[২৪, ২৬, ২৭, ৩৩, ৩৬ ও ৩৭] অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দাখিলে বাধ্য এইরূপ কোনো ব্যক্তিকে পরিশোধিত কোনো অঙ্ক, যদি অর্থ পরিশোধের সময় উক্ত ব্যক্তি রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দাখিলে ব্যর্থ হয় ৬[ :
তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ১৪২ এর বিধানাবলি পরিপালন সাপেক্ষে এই দফার বিধান প্রযোজ্য হইবে না। ]
(ত)মূলধনি প্রকৃতির কোনো ব্যয় কিংবা করদাতার ব্যক্তিগত কোনো ব্যয়;
(থ) ৭[ কোনো বিয়োজন বা কোনো দায়ের বিপরীতে সৃষ্ট কোনো বিয়োজন ] যাহা সুস্পষ্টভাবে নিরূপিত নহে;
(দ) ব্যবসায়িক কর্মকান্ডের সহিত সম্পর্কিত নহে এইরূপ সকল প্রকার ব্যয়;
(ধ) International Financial Reporting Standard মোতাবেক কোনো পরিসম্পদের Right of Use বাবদ দাবিকৃত কোনো অবচয় ভাতা ও সুদ বিয়োজন:
তবে শর্ত থাকে যে, এই ক্ষেত্রে ব্যবসার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ৮[পরিসম্পদের] জন্য পরিশোধযোগ্য ভাড়া, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ ব্যয় অনুমোদন করিতে হইবে;
(ন) ধারণাগত পরিসম্পদ অনিষ্টজনিত ক্ষতি (impairment loss);
৯[ (প) এই আইনে অনুমোদন গ্রহণের বিধান রহিয়াছে কিন্তু অনুমোদন গ্রহণ করা হয় নাই এইরূপ কোনো তহবিলে প্রদত্ত অর্থ; ]
(ফ) নির্ধারিত পদ্ধতিতে হিসাবরক্ষণের বিধান পরিপালন না হইলে প্রমাণকহীন সকল খরচ।
ব্যাখ্যা।– এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(অ) “নীট ব্যবসায় মুনাফা” অর্থ কোনো সত্তা কর্তৃক সরাসরি পরিচালিত ব্যবসায়িক মুনাফা, তবে কোনো সাবসিডিয়ারি, অ্যাসোসিয়েট বা জয়েন্ট ভেঞ্চার হইতে অর্জিত মুনাফা ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
(আ) “প্রচারণামূলক ব্যয়” অর্থ ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে কাউকে কোনো বস্তু, অর্থ বা অন্য কোনো প্রকারের সুবিধার প্রদানের বিপরীতে দাবিকৃত ব্যবসায়িক খরচ দাবি, তবে বিজ্ঞাপন ব্যয় ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না।
১ অর্থ অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ৪৯(ক) ধারাবলে দফা (গ) এ উল্লিখিত “শেয়ারহোল্ডার পরিচালককে” শব্দগুলির পরিবর্তে “স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার, ডিরেক্টর শেয়ারহোল্ডার বা প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারকে” শব্দগুলি ও চিহ্ন প্রতিস্থাপিত।
২ অর্থ অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ৪৯(খ) ধারাবলে দফা (ঘ) এ উল্লিখিত “১০ (দশ)” সংখ্যা, শব্দ ও বন্ধনীর পরিবর্তে “২০ (বিশ)” সংখ্যা, শব্দ ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত।
৩ অর্থ অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ৪৯(গ) ধারাবলে দফা (ঙ) এ উল্লিখিত “নীট ব্যবসায় মুনাফার ১০% (দশ শতাংশ)” শব্দগুলি, সংখ্যাগুলি, চিহ্নগুলি ও বন্ধনীগুলির পরিবর্তে “ব্যবসায়িক টার্নওভার এর ৬% (ছয় শতাংশ) অথবা নীট ব্যবসায় মুনাফার ১৫% (পনের শতাংশ), যেটি কম,” শব্দগুলি, সংখ্যাগুলি ও বন্ধনীগুলি প্রতিস্থাপিত।
৪ অর্থ অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ৪৯(ঘ) ধারাবলে নিম্নরূপ দফা (ড) এর পরিবর্তে প্রতিস্থাপিত।
[ (ড) কাঁচামাল বাবদ যেকোনো অঙ্কের পরিশোধ ব্যাংকিং মাধ্যমে পরিশোধিত না হইয়া অন্য কোনো মাধ্যমে পরিশোধিত হইয়া থাকিলে ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকার অতিরিক্ত পরিশোধিত অঙ্ক; ]
৫ অর্থ অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ৪৯(ঙ) ধারাবলে নিম্নরূপ দফা (ঢ) বিলুপ্ত।
[ (ঢ) দফা (ট), (ঠ) ও (ড) ব্যতীত অন্যান্য সকল প্রকার ব্যয়ের ক্ষেত্রে ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকার অতিরিক্ত অঙ্ক ব্যাংকিং মাধ্যমে পরিশোধ না হইয়া অন্য কোনো মাধ্যমে পরিশোধ হইয়া থাকিলে উক্ত পরিশোধিত অর্থ;]
৬ অর্থ অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ৪৯(চ) ধারাবলে দফা (ণ) এ উল্লিখিত “২৫, ২৬, ২৮, ২৯, ৩৬, ৩৭, ৪২ ও ৪৩” সংখ্যাগুলি, চিহ্নগুলি ও শব্দের পরিবর্তে “২৪, ২৬, ২৭, ৩৩, ৩৬ ও ৩৭” সংখ্যাগুলি, চিহ্নগুলি ও শব্দ প্রতিস্থাপিত এবং প্রান্তস্থিত “;” চিহ্নের পরিবর্তে “:” চিহ্ন প্রতিস্থাপিত এবং অতঃপর নূতন শর্তাংশ সন্নিবেশিত।
৭ অর্থ আইন, ২০২৪ এর ২৫(ক) ধারাবলে “যেকোনো দায়” শব্দগুলির পরিবর্তে “কোনো বিয়োজন বা কোনো দায়ের বিপরীতে সৃষ্ট কোনো বিয়োজন” শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত।
৮ অর্থ আইন, ২০২৪ এর ২৫(খ) ধারাবলে “ভূমি বা আঙ্গিনার” শব্দগুলির পরিবর্তে “পরিসম্পদের” শব্দটি প্রতিস্থাপিত।
৯ অর্থ আইন, ২০২৪ এর ২৫(গ) ধারাবলে নিম্নরূপ দফা (প) এর পরিবর্তে প্রতিস্থাপিত।
[ (প) বোর্ড কর্তৃক অননুমোদিত কোনো তহবিলে প্রদত্ত অর্থ; ]
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে উল্লিখিত কোনো কিছু যদি সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত আইন, বিধি, প্রজ্ঞাপন ও আদেশের সহিত সাংঘর্ষিক হয় সেইক্ষেত্রে উক্ত ইস্যুকৃত আইন, বিধি, প্রজ্ঞাপন ও আদেশই প্রাধান্য পাবে।